Space For Advertise
Space For Advertise

সর্বশেষ

যশোর, রবিবার, ২১-সেপ্টেম্বর-২০১৪ || ৬-আশ্বিন-১৪২১

শীর্ষ সংবাদ - প্রথম পাতা

ক্রসফায়ারে র‌্যাবকে হারালো পুলিশ: সাড়ে আট মাসে নিহত ১১৭

20-09-2014 | সুন্দর সাহা

ক্রসফায়ার বা বন্দুকযুদ্ধে এখন অনেকটাই পিছিয়ে গেছে এলিট ফোর্স র‌্যাব। ক্রসফায়ারে মানুষ হত্যায় বর্তমানে র‌্যাবকে হারালো পুলিশ। যার প্রমাণ মিলেছে চলতি বছরের সাড়ে আট মাসে সারা দেশের ক্রসফায়ার ও বন্দুকযুদ্ধের পরিসংখ্যানে। দেশের বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রাকারী বাহিনীর দেওয়া তথ্য মতে, চলতি বছরের গত সাড়ে ৮ মাসে ক্রসফায়ার ও বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন ১১৭ জন। এর মধ্যে শুধু পুলিশের ক্রসফায়ার ও বন্দুকযুদ্ধে প্রাণ হারিয়েছেন ৭৮ জন। যা দেশের এলিট ফোর্স র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটেলিয়ান র‌্যাবের ক্রসফায়ারের চেয়ে আড়াই গুণেরও বেশি। এই সময়ে র‌্যাবের ক্রসফায়ারে মাত্র ৩০ জন নিহত হয়েছে। আর বাকি নয়জন নিহত হয়েছেন বিজিবি ও কোস্টগার্ডসহ অন্যান্য বাহিনীর হাতে।
বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার দেয়া তথ্য মতে, সারা দেশে ক্রসফায়ার ও বন্দুকযুদ্ধে র‌্যাবকে হারিয়ে দিয়েছে পুলিশ। বর্তমানে পুলিশের ক্রসফায়ারে মানুষ খুনের ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যাওয়ায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে সারা দেশে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে র‌্যাবের চেয়ে পুলিশ সবসময়ই এগিয়ে রয়েছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা আগের যে কোনো সময়কে ছাড়িয়ে যাবে।  অথচ বিরোধী দলে থাকাকালীন সময়ে ‘ক্রসফায়ার’ নামে পরিচিত এ মানুষ হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে জোরালো অবস্থান ছিল আওয়ামী লীগের। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বন্ধ ছিল দলটির নির্বাচনী ইশতেহারের অন্যতম প্রতিশ্রুতি। কিন্তু ২০০৯ সালে মতায় এসে আওয়ামী লীগ পাঁচ বছরে এ হত্যাকাণ্ড  বন্ধে কোন উদ্যোগ নেয়নি। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) হিসাবে দেখা যায়, ওয়ান-ইলেভেনের পর অসাংবিধানিক ফকর উদ্দিন-মঈন ইউ আহমেদের আমলে যেখানে ২০০৭ সালে ১৮০ জন ও ২০০৮ সালে ১৭৫ জন আইনশৃঙ্খলা রাকারী বাহিনীর হাতে নিহত হন। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর দলটি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বন্ধের নির্বাচনী ইশতেহার থেকে কার্যত সরে আসে। বরং ‘ক্রসফায়ার’, ‘বন্দুকযুদ্ধ’ বা হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনা বন্ধ করার স্থলে তা ফের বেড়ে যায়। ওয়ান-ইলেভেনের পর ২০০৯ সালে মতায় আসে আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগের প্রথম বছরে ২২৯ জন ক্রসফায়ারের শিকার হন। এর পরের বছরগুলোতে ‘ক্রসফায়ার’, ‘বন্দুকযুদ্ধ’ বা হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনাগুলো কমলেও বেড়ে যায় গুম-গুপ্তহত্যার মতো ঘটনা।
ভুক্তভোগী পরিবারগুলো অভিযোগ করে, আইনশৃঙ্খলা রাকারী বাহিনীর পরিচয়ে তাদের স্বজনদের ধরে নিয়ে যাওয়ার পর গুম করে দেওয়া হচ্ছে বা লাশ ফেলে রাখা হচ্ছে। আসকের হিসাব অনুযায়ী, ২০১০ সালে ১৩৩ জন ‘ক্রসফায়ার’, গুলি ও হেফাজতে নিহত হন। একই বছর ৪৪ জন আইনশৃঙ্খলা রাকারী বাহিনীর দ্বারা অপহরণের শিকার হন। তাদের মধ্যে পরে ছয়জনের লাশ মেলে, সাতজনকে থানায় হস্তান্তর করা হয়। অন্যরা এখনো নিখোঁজ। ২০১১ সালে ১০০ জন ক্রসফায়ার ও হেফাজতে নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে ৫৯ জনকে আইনশৃঙ্খলা রাকারী বাহিনী অপহরণ করেছে বলে অভিযোগ ওঠে। পরে ১৬ জনের লাশ পাওয়া যায়, চারজনকে থানা হেফাজতে দেওয়া হয়। অন্যরা এখনো নিখোঁজ। ২০১২ সালে ক্রসফায়ার ও পুলিশ-র‌্যাবের হেফাজতে মৃত্যুর সংখ্যা কমে আসে ৯১-এ। এ সময় ধরে নিয়ে যাওয়া হয় ৫৬ জনকে, যাদের মধ্যে চারজনের লাশ পরে পাওয়া গেছে।
আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) ও অন্যান্য মানবাধিকার সংস্থার হিসাবে, চলতি বছরের শুরু থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ক্রসফায়ার ও বন্দুকযুদ্ধে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন ১১৭ জন। এর মধ্যে পুলিশের ক্রসফায়ারে নিহত হয়েছেন ৭৮ ব্যক্তি।  শনিবার রাতে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ রাজধানীর কদমতলী থেকে মেসবাহউদ্দিন নামে এক যুবককে বাসা থেকে গ্রেফতার করে। পরে মুগদায় তিনি পুলিশের ক্রসফায়ারে নিহত হন। পুলিশ জানায়, মেসবাহউদ্দিন তারেক অস্ত্র ব্যবসায়ী। কিন্তু এ অভিযোগের কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেনি গোয়েন্দা পুলিশ। এ নিয়ে পুলিশ প্রশাসনেই তোলপাড় শুরু হয়েছে। অস্বস্তিতে পড়েছে গোয়েন্দা পুলিশ। যে ব্যক্তির বিরুদ্ধে একটি জিডিও নেই, সে ব্যক্তিকে বাসা থেকে তুলে নিয়ে গুলি করে হত্যা করায় পুলিশের ক্রসফায়ার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তারেককে হত্যার পর দিনই ডিবি পুলিশের ক্রসফায়ারে নিহত হন আরেক যুবক কাইল্লা বাবু। বাবু অবশ্য মগবাজারের ট্রিপল হত্যার আসামি। ক্রসফায়ারের সর্বশেষ ঘটনা ঘটেছে নড়াইল জেলার কালিয়া উপজেলার মাথাভাঙ্গা গ্রামে। গত বুধবার রাতে কালিয়া থানা পুলিশের ক্রসফায়ারে নিহত হন কথিত চরমপন্থী নেতা সেকেন সরদার ওরফে স্যান সেকেন সরদার।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক এএসএম শাহজাহান মিডিয়াকে বলেন, নিরপেভাবে তদন্ত হলে ঘটনা উদ্ঘাটিত হওয়া উচিত। সূত্র ধরে এগোলে অপরাধীকে ধরা সম্ভব। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক, অপরাধ বিজ্ঞানী হাফিজুর রহমান কার্জন মিডিয়াকে বলেন, সরকারের উচিত হবে যে কোনো মূল্যে ক্রসফায়ার বন্ধ করা। এতদিন র‌্যাবের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠলেও এখন পুলিশের বিরুদ্ধে উঠছে। এভাবে চলতে থাকলে পুলিশ একসময় ফ্রাংকেনস্টাইন হয়ে পড়বে। তিনি আরও বলেন, প্রতিটি ক্রসফায়ারের ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত সাপেে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে ক্রসফায়ার বন্ধে ফৌজদারি আইনের সংশোধন করা উচিত।

সকল সংবাদ - প্রথম পাতা

Space For Advertise
Space For Advertise
Space For Advertise
Space For Advertise
Space For Advertise
Space For Advertise