Space For Advertise
Space For Advertise

সর্বশেষ

যশোর, বৃহস্পতিবার, ০২-অক্টোবর-২০১৪ || ১৭-আশ্বিন-১৪২১

শীর্ষ সংবাদ - প্রথম পাতা

বেপরোয়া গুলিবর্ষণ ও লাঠিচার্জে আহত অর্ধশতাধিক : গুলিবিদ্ধ ৫

02-10-2014 | স্টাফ রিপোর্টার

মহানবী হযরত মোহাম্মাদ (স.) ও পবিত্র হজ সম্পর্কে সরকারের একজন প্রভাবশালী মন্ত্রীর অশালীন মন্তব্যের প্রতিবাদ ও বিচার দাবিতে যশোরে  জেলা বিএনপি আহ’ত শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন  কর্মসূচিতে  কোতয়ালি পুলিশ বেপরোয়া লাঠিচার্জ ও গুলিবর্ষণ করেছে। এসময় পুলিশের এলোপাতাড়ি গুলি ও লাঠিচার্জে যুবদল, মহিলাদল নেত্রীসহ চারজন বুলেটবিদ্ধ ও ৫০-৬০ জন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। ঘটনার সময় পুলিশ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদকসহ আটজন বিএনপি নেতৃবৃন্দকে আটক করেছে। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে এ সময় সাংবাদিক ও পুলিশসহ অন্তত দশজন আহত হন ও ৭১ টিভির ক্যামেরা ভাংচুরের শিকার হয় ।
গুলিবিদ্ধরা হলেন- উপশহর সি ব্লক এলাকার যুবদল কর্মী কামাল হোসেন, পুলেরহাট এলাকার যুবদল কর্মী রঞ্জু, নগর বিএনপি নেতা জাহিদ হাসান টিটো ও যশোর পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ড মহিলাদলের সভাপতি সোনালি বেগম। পুলিশের এলোপাতাড়ি গুলিতে এ সময় কনস্টেবল মতিউর রহমান আহত হন। পুলিশের লাঠিচার্জে আহত সাংবাদিকরা হলেনÑ প্রেসক্লাব যশোরের সহ-সভাপতি এসএম হাবিবুল্লাহ হাবিব, সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোরের সভাপতি নূর ইসলাম, ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেসের যশোর করেসপনডেন্ট এসএম সোহেল, চ্যানেল আইয়ের জেলা প্রতিনিধি আকরামুজ্জামান, লোকসমাজের সিনিয়র ফটো সাংবাদিক হানিফ ডাকুয়া ও এমআর খান মিলন এবং ৭১ টিভির যশোর প্রতিনিধি এসএম ফরহাদ। বুধবার বিকেল ৪টার দিকে শহরের মুজিব সড়কে প্রেসক্লাবের সামনে পুলিশের মৌখিক অনুমতি নিয়ে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করতে এলে এ ঘটনা ঘটে।
জেলা বিএনপি নেতারা জানান, ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী মহানবী হযরত মোহাম্মাদ (স.) ও পবিত্র হজ সম্বন্ধে অশালীন কটূক্তি করার প্রতিবাদে ও তার শাস্তির দাবিতে জেলা বিএনপি এ মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করে। প্রথমে তারা যশোর শহরের দড়াটানা এলাকায় মানববন্ধনের জায়গা নির্ধারণ করে পুলিশের কাছে অনুমতি চাইলে কোতয়ালী থানা পুলিশ জানায়, বুধবার একই সময় সেখানে ইসলামী আন্দোলনের কর্মসূচি থাকায় অনুমতি দেয়া সম্ভবানা। পরে বিএনপি নেতারা শহরের চৌরাস্তা মোড়ে মানববন্ধন করতে চাইলে পুলিশ তাতে প্রথমে সম্মতি দিলেও পরে চৌরাস্তার পাশে পূজামণ্ডপ থাকায় সেখানে না করে প্রেসক্লাবের সামনে কর্মসূচি পালনের মৌখিক অনুমতি দেয়। ফলে দলটির পক্ষ থেকে প্রেসক্লাব যশোরের সামনে গতকাল বুধবার বিকেল  ৩.৩০ টায় মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী, সাংবাদিক ও পথচারীরা জানান, পুলিশের মৌখিক অনুমতি পাওয়ায় গতকাল বিকাল সাড়ে ৩টার ঠিক আগ দিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীরা মুজিব সড়কে প্রেসক্লাবের গেটের সামনে উপস্থিত হতে থাকেন। এসময় মানববন্ধন শুরুর আগেই  পুলিশ রাস্তা থেকে ধাওয়া করে প্রেসক্লাবের ভেতর থেকে ধরে ভ্যানে ওঠায় জাতীয়তাবাদী ওলামাদলের কর্মী সাব্বির হোসেন ও মুস্তাইন বিল্লাহকে। এর অল্প সময় পর প্রেসক্লাবের গেট থেকে আটক করা হয় ওলামাদলের সদস্য সচিব মোশাররফ হোসেনকে। এর কিছু সময় পর সেখানে উপস্থিত হন জেলা বিএনপির সম্মানিত সদস্য বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক নার্গিস বেগম, ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শামসুল হুদা, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, সাংগঠনিক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকনসহ বিএনপির শীর্ষ নেতারা। তাঁরা অনুমতি থাকা সত্ত্বেও ওলামাদল নেতাকর্মীদের আটকের কারণ জানতে চান। উপস্থিত সাংবাদিক নেতারাও ক্লাব চত্বর থেকে মানুষকে আটক করার প্রতিবাদ জানান। এ সময় কোতোয়ালি থানার ওসি ইনামুল হকের সঙ্গে রাজনীতিক ও সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের বাদানুবাদ হয়।
এ পরিস্থিতিতে মৌখিক অনুমতি পাওয়ায় পূর্বনির্ধারিত মানববন্ধন কর্মসূচি পালনের ব্যাপারে বিএনপি নেতাকর্মীরা অবস্থান নেন প্রেসক্লাবের রাস্তার ধারে। এক পর্যায়ে  শহরের ঈদগাহ মোড় হতে প্রেসক্লাব হয়ে সার্কিট হাউজ গেট পর্যন্ত মানববন্ধনে দাঁড়ান নেতা-কর্মীরা। মানববন্ধন কিছুক্ষণ চলার পর কোন কিছু বুঝে ওঠার আগেই পুলিশ  নেতা-কর্মীদের ওপর চড়াও হয়। এক পর্যায়ে পুলিশ তাদের ওপর বেপরোয়া লাঠিচার্জ করতে থাকে। এরই মধ্যেই সেখান থেকে পুলিশ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবুকে আটক করে পিকআপ ভ্যানে তোলে। কোন কারণ ছাড়াই জেলা বিএনপি নেতা সাবুকে গ্রেফতার করায় বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে নেতাকর্মীরা। তারা রাস্তার ওপর অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকে। এর কিছুক্ষণ পর জেলা বিএনপির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদকে আটক করলে নেতাকর্মীরা আরও ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। তারা পুলিশের গাড়ি ঘিরে বিক্ষোভ করতে থাকে। মহিলা দল ও যুবদল, ছাত্রদলের বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী পুলিশভ্যান ঘিরে বিক্ষোভ শ্লোগান দিতে থাকে। দফায় দফায় তারা  শ্লোগান দিয়ে ওই এলাকা প্রকম্পিত করে তোলে। এক পর্যায়ে পুলিশ লোহার রড, হকিস্টিক লাঠিসোটা নিয়ে নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালালেও তারা অবস্থান পরিবর্তন করে না।  পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে  সেখানে বিক্ষোভ করতে থাকে। এক পর্যায়ে আশপাশ এলাকার বিএনপি নেতাকর্মীরাও সেখানে ছুটে আসেন।  বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীদের ছত্রভঙ্গ করতে শেষ পর্যন্ত পুলিশ বেপরোয়া গুলিবর্ষণ শুরু করে। এ সময় পুলিশ অন্তত ২০ রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এ ঘটনায় সাংবাদিকসহ অন্তত দশজন আহত হন। পুলিশ ৭১ টিভির সাংবাদিক এসএম ফরহাদের ওপর হামলা চালায় এবং তার ক্যামেরা ভাঙচুর করে।
পুলিশের এলোপাতাড়ি গুলির কারণে এলাকা ফাঁকা হয়ে গেলে রাস্তায় থাকা বিএনপি নেতাকর্মীদের পুুলিশ ধাওয়া করে। পরে মুজিব সড়কের পাশে খন্দকার ট্রেডার্সের পাশের গলিতে ঢুকে পুলিশ খুব কাছ থেকে কামাল নামে এক যুবককে বুকে গুলি করে। আহত কামাল মুজিব সড়কে একটি দোকানের কর্মচারী ও উপশহর সি ব্লকের বাসিন্দা। গোলমালের সময় তিনি দোকান থেকে বের হয়ে আসছিলেন। পুলিশ তাকে ধাওয়া করে খুব কাছ থেকে গুলি করে। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে নিয়ে যায়। জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন দাবি করেন, গুলিবিদ্ধ কামাল হোসেন জাতীয়তাবাদী যুবদল কর্মী। তার অবস্থা গুরুতর।  
ঘটনার সময় পুলিশের এলোপাতাড়ি গুলিতে কনস্টেবল মতিউর রহমান আহত হন। তার বা হাতে গুলি লাগে। এছাড়া রঞ্জু ও সোনালি নামে যুবদল ও মহিলাদলের দুই নেতাকর্মীও গুলিবিদ্ধ হন। আহত চারজনকে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।  পুলিশ বিএনপি নেতা সাবেরুল হক সাবুসহ আটজনকে আটক করে। আটক অন্যরা হলেন, জেলা ওলামা দলের আহ্বায়ক আওলাদ হোসেন, ঘোপ সেন্ট্রাল রোড জামে মসজিদের মোয়াজ্জিন সাব্বির হোসেন ও ব্যবসায়ী মাসুম হোসেন। অন্যদিকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নেতাকর্মীদেরও আটক দেখানো হয়েছে বলে পুলিশের একটি সূত্র জানায়।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কেএম আরিফুল হক দাবি করেন, কতিপয় ব্যক্তি মুজিব সড়কে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করায় পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে গুলি করে। এ সময় কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে।
কোতোয়ালি থানার ওসি ইনামুল হক বিএনপি সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট সাবেরুল হক সাবুসহ কয়েকজনকে আটকের কথা স্বীকার করেছেন।
অন্যদিকে, গ্রেফতারের আগে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু সাংবাদিকদের জানান, বিএনপির পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি ছিল শহরের চৌরাস্তায়। কিন্তু সেখানে ইসলামী আন্দোলনের কর্মসূচি থাকায় পুলিশ অনুমতি দেয়নি। পরে প্রেসক্লাবের সামনে বিকেল সাথে ৩ টার দিকে  মানববন্ধন কর্মসূচি করার মৌখিক অনুমতি পাই আমরা।  সাবেরুল হক সাবু জানান, মৌখিক অনুমতি দেয়া সত্বেও পুলিশ কোন কারণ ছাড়াই আকস্মিক নেতাকর্মীদের ওপর চড়াও হয়। পুলিশের আচরণে আমরা বিস্মিত হয়েছি। জেলা বিএনপির নেতারা জানান, পুলিশের বেপরোয়া গুলিবর্ষণ ও লাঠিচার্জে তাদের অনেক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। এসব নেতাকর্মীরা গ্রেফতারের ভয়ে তারা বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এদিকে রাতে সর্বশেষ খবরে জানা গেছে, পুলিশের গুলিতে গুরুতর আহত যুবদল কর্মী কামাল হোসেনের শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় তাকে  ঢাকা বক্ষব্যাধি হাসপাতালে পুলিশ প্রহরায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। 

সকল সংবাদ - প্রথম পাতা

Space For Advertise
Space For Advertise
Space For Advertise
Space For Advertise
Space For Advertise
Space For Advertise