Space For Advertise
Space For Advertise

সর্বশেষ

যশোর, বৃহস্পতিবার, ২১-আগস্ট-২০১৪ || ৬-ভাদ্র-১৪২১

শীর্ষ সংবাদ - প্রথম পাতা

বিলাসবহুল গাড়ি এনে চলছে শুল্ক ফাঁকির মচ্ছব

21-08-2014 | সুন্দর সাহা

সরকারি নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে শুল্কমুক্ত সুবিধায় বিলাসবহুল গাড়ি এনে চলছে অবৈধ বাণিজ্য। বিএমডাব্লিউ, টয়োটা ল্যান্ড ক্রুজার, স্টেশন ওয়াগন, প্রাডো টিএক্স, ডিজেলচালিত ভিএক্স, হ্যামার, পোরশে, মার্সিডিজ বেঞ্জসহ বিভিন্ন বিলাসবহুল গাড়ি শুল্কমুক্ত সুবিধায় পর্যটক, সংসদ সদস্য ও বেসরকারি বড় প্রকল্পে ব্যবহারের জন্য আমদানির পর চলছে এই অবৈধ বাণিজ্য। এসব গাড়ি আমদানি বাবদ সরকারি কোষাগারে রাজস্ব বাবদ কিছুই জমা হচ্ছে না। অথচ এসব গাড়ি আমদানি করলে সম্পূরক শুল্ক দেয়ার নিয়ম হচ্ছে প্রায় সাড়ে তিনশ শতাংশ। এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য সংগ্রহ করে রাজস্ব আদায়ের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে এনবিআর সূত্র জানায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পর্যটকদের ব্যবহারে শুল্কমুক্ত সুবিধায় গত বছরের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত বিলাসবহুল ৩১৫টি গাড়ি আনা হয়েছে। এর মধ্যে কোনো মন্ত্রণালয় বা সরকারি সংস্থারগুলোর কাছে ১১৮টি গাড়ির সন্ধান নেই। এগুলো শুল্ক দিয়ে আনলে এনবিআরের রাজস্ব খাতে ২৫০ কোটি টাকার বেশি আয় হতো। সূত্র ততে, বিএমডাব্লিউ, টয়োটা ল্যান্ড ক্রুজার, স্টেশন ওয়াগন, প্রাডো টিএক্স, ডিজেলচালিত ভিএক্স, হ্যামার, পোরশে, মার্সিডিজ বেঞ্জসহ বিভিন্ন বিলাসবহুল গাড়ি শুল্কমুক্ত সুবিধায় পর্যটক, সংসদ সদস্য ও বেসরকারি বড় প্রকল্পে ব্যবহারের জন্য আমদানির সুযোগ রয়েছে। তিন েেত্রই সুনির্দিষ্ট রাজস্ব নীতিমালা রয়েছে। এসব গাড়ি যদি শুল্ক দিয়ে আমদানি করা হতো তাহলে সরকার শত শত কোটি টাকা রাজস্ব পেতো। সরকারি নিয়ম মোতাবেক গাড়ি আমদানি করতে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব গুণতে হয়। যেমন: ১৫০০ সিসি পর্যন্ত গাড়ি আমদানি করতে ৪৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক দিতে হয়। ১৫০১ থেকে ২০০০ সিসি পর্যন্ত গাড়ি আমদানি করতে সম্পূরক শুল্ক দিতে হয় ১০০ শতাংশ। ২০০১ থেকে ২৭৫০ সিসি পর্যন্ত গাড়ি আমদানি করতে সম্পূরক শুল্ক দিতে হয় ২০০ শতাংশ। ২৭৫১ থেকে ৪০০০ সিসি পর্যন্ত গাড়ি আমদানি করতে সম্পূরক শুল্ক দিতে হয় ৩৫০ শতাংশ। ৪০০০ সিসির  ওপর গাড়ি আমদানি করতে সম্পূরক শুল্ক দিতে হয় ৫০০ শতাংশ। এছাড়াও প্রতিটি গাড়ি আমদানির পর ২৫ শতাংশ কাস্টম ডিউটি ও ৫ শতাংশ রেগুলেটরী ট্যাক্স দিতে হয়। আমদানি মূল্যের সাথে কাস্টম ডিউটি ও রেগুলেটরী ট্যাক্স যোগ করার পর তার ওপর ধার্য হয় সম্পূরক শুল্ক। এছাড়া ৫ শতাংশ ইনকাম ট্যাক্স দেয়ার নিয়ম রয়েছে। নিয়ম মোতাবেক আমদানি মূল্যের সাথে ভ্যাট ও রেগুলেটরী ট্যাক্স যোগ করে যে মূল্য ধার্য হয় তার ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট দিতে হয়। যার ওপর ৪ শতাংশ অগ্রিম বাণিজ্য শুল্ক দেয়ার পর ছাড় পায় আমদানিকৃত গাড়ি। যার কোন ধার ধারছে না বিভিন্ন অবৈধ পন্থায় বিলাসবহুল গাড়ি আমদানিকারকরা।
সূত্র জানায়, রাজস্ব আইনে, পর্যটক এবং প্রকল্পের প্রয়োজনে গাড়ি আনলেও নির্দিষ্ট সময় পর বাধ্যতামূলক ফেরত নিয়ে যেতে হবে। তা ছাড়া সংসদ সদস্যদের নামে আমদানিকৃত গাড়ি পাঁচ বছরের আগে বিক্রির আইনি সুযোগ নেই। কিন্তু এসব নিয়ম অমান্য করে রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে নামিদামি গাড়ি এনে উচ্চমূল্যে বিক্রি হচ্ছে। অথচ এসব বিলাসবহুল গাড়ির জন্য প্রকৃত মূল্যের কয়েকগুণ বেশি রাজস্ব পরিশোধের নিয়ম রয়েছে। এ বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে বেসরকারি বড় প্রকল্পের কিছু কর্তাব্যক্তি, ব্যবসায়ী এবং সংসদ সদস্যের বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য পেতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), বিআরটিএসহ (বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি) সংশিষ্ট সংস্থার কাছে চিঠি পাঠিয়েছে এনবিআর। জানতে চাইলে এনবিআর সদস্য ফরিদ উদ্দিন মিডিয়াকে বলেন, '১১৮টি বিলাসবহুল নিখোঁজ গাড়ি দেশেই রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব গাড়ির অনুসন্ধান করছে এনবিআর। ভবিষ্যতে আরো জোরালোভাবে এ অভিযান চালানো হবে।' জাতিসংঘের কাস্টমস কনভেনশন অন দ্য টেম্পোরারি ইমপোর্টেশন অব প্রাইভেট রোড ভেহিক্যালস, ১৯৫৪ এবং কাস্টমস কনভেনশন অন দ্য টেম্পোরারি ইমপোর্টেশন অব কমার্শিয়াল রোড ভেহিক্যালস, ১৯৫৬-এর আওতায় বিভিন্ন দেশে কারনেট সুবিধায় নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে এই সুবিধার আওতায় একটি দেশে গাড়ি প্রবেশের ছয় মাস পর তা অবশ্যই ফেরত নিতে হবে। কিছু প্রবাসী বাংলাদেশির যোগসাজশে কারনেটের আওতায় গাড়ি এনেছে দেশের বড় মাপের কিছু ব্যবসায়ী। পর্যটকদের নামে শুল্কমুক্ত সুবিধায় গাড়ি এনে তারা বিক্রি করে দিয়েছে।
শুল্কমুক্ত সুবিধায় আনা বিলাসবহুল গাড়ির বেশির ভাগই ইউরোপ, আমেরিকা ও জাপান থেকে আসে। এ সুবিধার অপব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় এনবিআর পর্যটকদের জন্য কারনেটের পরিবর্তে আন্তর্জাতিক পদ্ধতিতে শুল্ক পরিশোধের মাধ্যমে গাড়ি আনার অনুমোদন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আবার একাধিক বেসরকারি প্রকল্পের আওতায় শুল্ক ফাঁকি দিয়ে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বিলাসবহুল হাল ফ্যাশনের গাড়ি এনে ফেরত নেওয়ার আইনও মানছে না অনেকে। বেসরকারি প্রকল্পে ব্যবহার শেষে দেশেই আছে ৪৩টি গাড়ি। এসব গাড়ি আনার তথ্য থাকলেও ফেরত নেওয়ার কোনো তথ্য নেই সরকারি সংস্থাগুলোর কাছে। এনবিআরের হিসাবে এসব গাড়ি শুল্ক দিয়ে দেশে আমদানি করা হলে রাজস্ব আসত ৫০ কোটি টাকার বেশি।
অন্যদিকে জাতীয় সংসদের কিছু সংসদ সদস্যও আইনের ফাঁক গলে শুল্কমুক্ত সুবিধায় আনা গাড়ি নিয়ে বাণিজ্য করছেন বলে এনবিআরে অভিযোগ আছে। শুল্কমুক্ত সুবিধায় গাড়ি আমদানিসম্পর্কিত নীতিমালায় উল্লেখ আছে, একজন সংসদ সদস্য একবার গাড়ি আমদানির ন্যূনতম পাঁচ বছর পর আবারও শুল্কমুক্ত সুবিধায় গাড়ি আনতে পারবেন। এ েেত্র গাড়ি আমদানির পাঁচ বছরের মধ্যে তিনি তা বিক্রি করতে পারবেন না। এনবিআরের কেন্দ্রীয় শাখা সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেলের (সিআইসি) একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, 'আমাদের কাছে অভিযোগ আছে, নীতিমালা না মেনে কিছু সংসদ সদস্য শুল্কমুক্ত সুবিধায় আমদানিকৃত গাড়ির মালিকানা পরিবর্তন না করেই বিক্রি করছেন। এ েেত্র বিক্রয়কারী সংসদ সদস্যের কাছ থেকে যিনি গাড়ি কিনছেন তাঁর সঙ্গে চুক্তি থাকছে পাঁচ বছর পরেই গাড়ির মালিকানা পরিবর্তন করা হবে। কিন্তু এখনই তিনি (ক্রেতা) গাড়ি নিজের মতো ব্যবহার করতে পারবেন।'
এনবিআর সূত্র জানায়, এ ধরনের ঘটনায় বিক্রীত মূল্যের কিছু অর্থ বাকি রাখা হচ্ছে। বিক্রয় চুক্তির শর্তে গাড়ির মালিকানা পরিবর্তনের পরই বাকি অর্থ পরিশোধের উল্লেখ থাকছে। অন্যদিকে বর্তমান সংসদের অনেক সদস্য গাড়ি আনার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়েছেন। এ েেত্র এমন কোনো চুক্তি হচ্ছে কি না তা নজরদারি করা হচ্ছে। কিছু সংসদ সদস্যকে সন্দেহ করা হয়েছে। এনবিআর চেয়ারম্যান গোলাম হোসেন বলেন, 'শুল্কমুক্ত গাড়ি এনে রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার বিভিন্ন অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ খাতে বড় অঙ্কের রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে সরকার। এ বিষয়ে কঠোর অবস্থানে আছে এনবিআর।'

সকল সংবাদ - প্রথম পাতা

Space For Advertise
Space For Advertise
Space For Advertise
Space For Advertise
Space For Advertise
Space For Advertise