সর্বশেষ

যশোর, বৃহস্পতিবার, ১৭-এপ্রিল-২০১৪ || ৪-বৈশাখ-১৪২১

শীর্ষ সংবাদ - প্রথম পাতা

দাবদাহে পুড়ছে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল

১৭-০৪-২০১৪ | আকরামুজ্জামান

অসহনীয় গরমে পুড়ছে যশোরসহ গোটা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল। স্বস্তি নেই কোথাও। বাইরে বেরুনো যাচ্ছে না সূর্যের প্রখর তাপে। গ্রামের মানুষ ঘরে থাকতে পারছেনা  বিদ্যুতের অভাবে। অসুস্থ হয়ে পড়ছে বৃদ্ধ ও শিশুরা। দিনের বেলায় কর্মক্ষম মানুষের কাজকর্ম বন্ধ প্রায়।
বৈশাখ মাসের শুরু থেকেই দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে তাপমাত্রা বেড়ে যায় দ্রুত। এ বছরে এ সময়ের চিরাচরিত ঝড়ের দেখা মেলেনি এখনো। কবে দেখা মিলবে তাও বলতে পারছে না আবহাওয়া অফিস। প্রখর সূর্যতাপে অস্বাভাবিক উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে প্রকৃতি। সকাল ১০টা বাজতে না বাজতেই দাবদাহ শুরু হচ্ছে। সন্ধ্যার আগ পর্যন্ত তাপমাত্রা কমছে না তেমন একটা। বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। বৃষ্টি না হওয়ায় কোনভাবেই কমছে না গরমের মাত্রা। তপ্ত রোদে ফেটে চৌচির হচ্ছে মাটি। বাতাস নেই। গাছের পাতা পর্যন্ত নড়ছে না। পিচের রাস্তায় পা ফেলার উপায়ও নেই। দেশের বিভিন্ন স্থানে পুকুর-খাল শুকিয়ে খটখটা। প্রতিনিয়ত বাড়ছে তাপমাত্রা ও গরমের মাত্রা। তীব্র গরমে হাসফাস করছে মানুষ এবং প্রাণিকুল। গরমের কারণে জনজীবন অচল হওয়ার উপক্রম হয়েছে। বিশেষ করে দুস্থ দরিদ্র ও খেটে খাওয়া মানুষের কষ্ট চরমে পৌঁছেছে।
আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, আগামী এক সপ্তাহ তাপমাত্রা কমার কোনো আশঙ্কা নেই। বরং তাপমাত্রা বাড়তে পারে বলে আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন। তাদের মতে, এপ্রিল মাস সবচেয়ে গরমের মাস। তাই বৃষ্টি হলে তাপমাত্রা কমার সম্ভাবনা আছে। একই সঙ্গে দু’একদিনের মধ্যে কোন বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা নেই বলেও জানান তারা। এ পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বেশি বেশি পানি পান, স্যালাইন ও লেবুর শরবত খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। গরমের কারণে দুপুরের পর শহরের মানুষ তীব্র গরমে প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না। বাতাসে আদ্রতার পরিমাণ বেশি থাকায় তাপমাত্রার চেয়ে একটু বেশিই গরম অনুভূত হচ্ছে। অন্যদিকে জেলা অথবা উপজেলা হাসপাতালগুলোতে ডায়রিয়ার রোগী বেড়েছে। গ্রাম এলাকায় চাহিদা মাফিক বিদ্যুত না থাকায় সেচের অভাবে ফসলের মাঠে পানি না থাকায় মাটি শুকিয়ে ফেটে যাচ্ছে। বৃষ্টি না হওয়ায় বিভিন্ন স্থানে নলকূপ থেকে পানি উঠছে না। গ্রামাঞ্চলে যাদের নলকূপ রয়েছে কেবল তারাই বোরো মৌসুমের ধান ফলানোর সুযোগ পাচ্ছেন। অন্যরা পানির জন্য হাহাকার করছেন। এদিকে বৃষ্টি না হওয়ায় পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় যশোরে শুরু হয়েছে তীব্র পানি সঙ্কট। শহরের ৯০ শতাংশ টিউবয়েলে পানি উঠছেনা। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে একই ধরনের গরম অনুভূত হতে পারে। মে মাসের মাঝামাঝি বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে।

সকল সংবাদ - প্রথম পাতা